Quebec Law 25 and Generative AI: What to Settle Before Production
· Dev.to
· Dev.to
· Prothom Alo

নাঈম আহমেদ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পা রেখেছেন গত মৌসুমেই। অভিষেক মৌসুমে তিনি খেলেছিলেন তিন ম্যাচ। এবারও প্রথম দুই ম্যাচে রাজশাহীর একাদশে ছিলেন। কিন্তু আলোচনা হওয়া তো দূর, বলার মতো কিছু করতে পারেননি। ৫ ম্যাচের ১০ ইনিংসে তাঁর দুটি ফিফটি ছিল, কিন্তু সেঞ্চুরির দেখা না পেলে তো আর নজরেও আসা যায় না।
Visit afsport.lat for more information.
নিজের প্রথম সেঞ্চুরির জন্য নাঈমের অপেক্ষা শেষ হয়ে গিয়েছিল গত পরশুই, তখনই তিনি হন শিরোনাম। গতকাল সেই সেঞ্চুরিকেই রূপ দিয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরিতেও। এই অনুভূতি কেমন? নাঈমের এক শব্দের ইংরেজি উত্তরেও মুঠোফোনের এপার থেকেও উচ্ছ্বাসটা টের পাওয়া গেল স্পষ্ট, ‘অ্যামেজিং।’
গতকাল রাজশাহীর বিভাগীয় স্টেডিয়ামে তিনি যখন ব্যাট করতে নামেন, তখন তাঁর রান ১৭৬। উইকেটের চারদিকে শট খেলেছেন, প্রতিপক্ষ বরিশালের বোলাররা অসহায়ই হয়ে পড়েছিলেন যেন। তবু ডাবল সেঞ্চুরির জন্য দুরুদুরু বুকে অপেক্ষাই করার কথা যে কারও। ২১ বছর বয়সী নাঈম এখানে ছিলেন ব্যতিক্রম, তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, ডাবল সেঞ্চুরিটা তিনি করেই ফেলবেন।
ডাবল সেঞ্চুরির পর নাঈম আহমেদকথাগুলো তাঁর মুখেই শুনুন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছিল যে আমি করে ফেলব। যে রকম ফ্লোতে আছি, ওখান থেকে শুধু স্বাভাবিক থেকেছি। আমার বিশ্বাস ছিল, আমি ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেলব আস্তে আস্তে। কারণ, আমি ও রকম ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলব না। শুধু যেভাবে ব্যাটিং করে গেছি, সেটার ওপর বিশ্বাস ছিল, নিজের স্কিলের ওপর বিশ্বাস ছিল। আমি বিশ্বাসী ছিলাম যে ডাবল সেঞ্চুরি হয়ে যাবে।’
সেটি করেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ছোট্ট একটা তালিকাতেও ঢুকে গেছেন নাঈম। তাইবুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, তাওহিদ হৃদয় ও আবদুল্লাহ আল মামুনের পর পঞ্চম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেঞ্চুরির খাতা খুলেছেন।
নাঈমের ডাবল সেঞ্চুরির উল্লাসচাঁপাইনবাবগঞ্জের ছেলে নাঈম স্বভাবে বেশ ছটফটে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। বড় ভাইয়ের সঙ্গে ১৪ বছর আর বোনের সঙ্গে ১১ বছর বয়সের তফাত। নাঈমের কথায় তাই, ‘যা করি, তাতেই পরিবার খুশি থাকে।’ বড় দুই ভাইবোনই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে নিজেদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
কিন্তু নাঈমের জীবন আষ্টেপৃষ্ঠে ছিল শুধু ক্রিকেট। অনূর্ধ্ব-১৪ পর্যায়ে সারা দেশে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার পর ভর্তি হন বিকেএসপিতে। সেখান থেকে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পথ ধরে তিনি চলে এসেছেন প্রথম শ্রেণির মঞ্চে। মাঝে খেলেছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দলেও। খেলেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে।
নাঈম আহমেদ, ব্যাটসম্যান, রাজশাহী বিভাগআমি বিশ্বাস করি যে জাতীয় দলে খেলব। কয়েক বছরের ভেতরই খেলব।শুরুটা অবশ্য ক্রিকেট বলে নয়। টেপ টেনিস ক্রিকেটে নাম কুড়িয়ে ক্রিকেট বলে অনুশীলন শুরু করেন এলাকার এক বড় ভাইয়ের হাত ধরে, ‘শুরুর দিকে যেখানে সুযোগ পেতাম, আসলে ওখানেই খেলতাম। তখন শুধু খেলতে চাইতাম।’
এই জায়গায় তাঁর মিল আছে জাতীয় দলে এখন তারকা বনে যাওয়া পেসার নাহিদ রানার সঙ্গে। তাঁরও পথের শুরুটাও হয়েছিল টেপ টেনিস ক্রিকেটে। দুজনের বাড়িই চাঁপাইনবাবগঞ্জে। শুধু মিল আছে, তা–ই নয়। রাজশাহীর ক্রিকেটে একসঙ্গে অনুশীলন আর ম্যাচ খেলার সূত্রে পরিচয়টা সেই ২০১৯-২০ সালেই রূপ নেয় বন্ধুত্বে।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দলের হয়ে তিনটি যুব ওয়ানডে খেলেছেন নাঈম আহমেদচোখের সামনেই তাই নাহিদ রানার উত্থান, জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া আর তারকা বনে যাওয়ার পথটা দেখেছেন নাঈম। সেটিই তাঁত মধ্যেও ঢুকিয়ে দিয়েছে একটা বিশ্বাস, ‘আমি বিশ্বাস করি যে জাতীয় দলে খেলব। কয়েক বছরের ভেতরই খেলব।’
সেই পথে পা বাড়াবেন বলে এই মৌসুম শুরুর আগে খাদ্যভ্যাস আর জীবনাচার বদলে ফেলেছেন। শিগগিরই তিনি সিঁড়ি বেঁয়ে যেতে চান জাতীয় দলে। রাজশাহীতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নাহিদ রানার সঙ্গে খেলেছেন, এখন তাঁর স্বপ্নে দুজনের গায়ে একসঙ্গে জাতীয় দলের জার্সি।
প্রথম সেঞ্চুরিকেই ডাবল বানালেন নাঈম, ২২ বলে ফিফটি করে জাওয়াদের রেকর্ড· NY Post

Visit sport-tr.bet for more information.