শ্রমজীবী থেকে তারকা পরিবার, বাল্যবিবাহ যখন মগজে
· Prothom Alo

বয়স মোটে ১৫ বছর, এই বয়সেই নিজের বিয়ের ঘোষণা দিল শিশুশিল্পী হিসেবে আলোচিত এক মুখ। তার সেই ঘোষণা বাল্যবিবাহের প্রসঙ্গটি নতুন করে আলোচনায় তোলার পর ওই শিল্পী জানায়, বাগ্দান হয়েছে, আইন মেনে বিয়েটি হবে নির্ধারিত সময়ে। অর্থাৎ আরও তিন বছর পর, যখন তার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে। কেননা, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, মেয়েদের বিয়ের এটাই ন্যূনতম বয়স।
Visit saltysenoritaaz.org for more information.
তবে তার সর্বশেষ বক্তব্যও আলোচনা থামিয়ে রাখতে পারেনি। কারণ, এই শিশুশিল্পী সংবাদমাধ্যমে পরিচিত মুখ। আর এ ধরনের ব্যক্তিত্বকে অনেকে অনুসরণ করেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই কিশোরী যে উদাহরণ তৈরি করল, তার ক্ষতি কতটা, তা কি তার পরিবার বিবেচনায় এনেছে?
এই খবর পড়তে পড়তে মনে পড়ে গেল সাতক্ষীরার একটি ঘটনা। বাল্যবিবাহ নিয়ে বিশদ আকারে প্রতিবেদনের কাজে গত বছরের সেপ্টেম্বরে গিয়েছিলাম দক্ষিণ উপকূলের জেলাটিতে। চার দিন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাল্যবিবাহ–সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছিলাম।
ওই সময়ে ২১ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার বৈকারী ইউনিয়নে বাল্যবিবাহের শিকার এক কিশোরীর বাড়ি গিয়েছিলাম স্থানীয় অধিকারকর্মী সাকিবুর রহমানের সঙ্গে। মাসখানেক আগে ১৫ বছর বয়সী মেয়েটির বাল্যবিবাহ ঠেকিয়েছিল প্রশাসন।
কথা বলতে গিয়ে শ্রমজীবী পরিবারের মেয়েটির বাবা–মায়ের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পড়তে হলো। একপর্যায়ে তাঁরা কথা বলতে রাজি হন। তবে কথার মধ্যে বাল্যবিবাহ দিতে গিয়ে ধরা পড়ে যাওয়ার আফসোসই ছিল। মেয়েটির মা বলেছিলেন, ‘অন্য কারও বিয়ে কি বন্ধ রইল? খালি আমার মেয়ের বিয়ে বন্ধ হইল!’ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মেয়েটিও জানিয়েছিল, গত বছর তার পাঁচ সহপাঠীর বিয়ে হয়, কারও আটকায়নি।
সাতক্ষীরার নারী, মেয়েকে বাল্যবিবাহ দিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েঅন্য কারও বিয়ে কি বন্ধ রইল? খালি আমার মেয়ের বিয়ে বন্ধ হইল!বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আইন, আইনের প্রয়োগ ও জনসচেতনতা তৈরিতে নানা কর্মসূচি রয়েছে সরকারের। কিন্তু ঢাকার উচ্চবিত্ত পরিবারের শিশুশিল্পী কিংবা সাতক্ষীরার আটপৌরে গ্রামের মাদ্রাসাশিক্ষার্থী—বাল্যবিবাহের দুটি প্রবণতা নতুন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়, তাহলে কি বাল্যবিবাহ মানুষের মগজে রয়ে গেছে?
দেশে নারী শিক্ষার প্রসার হলেও নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত কোনো পরিবার নারীদের ঘিরে বিয়েকেন্দ্রিক চিন্তা থেকে এখনো বের হতে পারেনি বলেই মনে করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম।
দশম শ্রেণিতে ওঠার আগেই অর্ধেক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ, কয়েকটি কারণ বলছে পরিবারবাল্যবিবাহ মাঝেমধ্যে আইনের জালে আটকা পড়লেও এটিকে ঠিক যথাযথ আটকে যাওয়া বলা যায় না। কারণ, বিয়ে হয়ে গেলে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়েটিকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানো যাবে না, অভিভাবকের দেওয়া এমন মুচলেকা পরে মূল্যহীন হয়ে পড়ে, মেয়েটিকে ঠিকই শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গাজীপুরের শ্রীপুরে ১৩ বছরের এক কিশোরীর বাবা–মায়ের মতো অনেকে ‘১৮ বছরের আগে বিয়ে দেব না’, রাতে এমন মুচলেকা দিয়ে ভোরে মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করেন।
তাই শুধু আইন কঠোর করে যে এই সমস্যার সমাধান হবে না, বলছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমীন। তাঁর মতে, কী ধরনের পদক্ষেপ নিলে বাল্যবিবাহ ঠেকানো যাবে, তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে এরপর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারণের মূল যুক্তি হলো স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শারীরিক–মানসিক পরিপক্বতা অর্জনের পর সংসারজীবন নিশ্চিত করা। বাল্যবিবাহ রোধের মাধ্যমে মা ও শিশুর মৃত্যুহার হ্রাস, প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এর উদ্দেশ্য।
বাল্যবিবাহ নিরোধে এই ভূখণ্ডে প্রথম আইন হয়েছিল ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯২৯ সালে। সেই আইন দিয়েই চলছিল পাকিস্তান আমল। বাংলাদেশ আমলে কয়েক দফা সংশোধনের পর ২০১৭ সালে হয়েছিল বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন। তবে বাল্যবিবাহ থেমে নেই।
বাল্যবিবাহের চিত্র
একটু তথ্য দিলে দেখা যাবে, বাল্যবিবাহের বাস্তব চিত্রটা কতটা ভয়াবহ। গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফ প্রকাশিত মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস–বহুনির্দেশক গুচ্ছ জরিপ) প্রতিবেদন অনুসারে, দেশে অপ্রাপ্তবয়স্ক প্রতি দুটি মেয়ের মধ্যে একটি মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে। দেশজুড়ে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের হার ৫৬ শতাংশ। বাল্যবিবাহের কারণে কিশোরী মাতৃত্বও বেড়েছে। কিশোরী মায়েদের সন্তান জন্ম দেওয়ার হার প্রতি হাজারে ৯২।
প্রতিবেদনে বাল্যবিবাহের ক্ষতির দিক তুলে ধরে বলা হয়, বাল্যবিবাহের ফলে দেশের উৎপাদনশীলতা ও মানবসম্পদের সম্ভাবনার দিক থেকে বছরে সাত থেকে আট বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমান গতিতে চললে বাল্যবিবাহমুক্ত দেশ গড়তে ৬৪ বছরের বেশি সময় লাগবে।
সাতক্ষীরায় ২০ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনে সাতটি স্কুল ও মাদ্রাসা পরিদর্শন করে ও চারটি স্কুলের তথ্য সংগ্রহ করে পেয়েছিলাম, ওই ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে। ৪৮ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে দশম শ্রেণিতে ওঠার আগেই। আর বাল্যবিবাহের সঙ্গে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া ও কিশোরী অবস্থায় গর্ভধারণ ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
প্রতি দুটি মেয়ের মধ্যে একটি মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছেদেশে বছরে কতসংখ্যক বাল্যবিবাহ হয়, সে হিসাব পাওয়া যায় না। শুধু বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের ঘটনার হিসাব রাখা হয় উপজেলা পর্যায়ে।
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে হেল্পলাইন ১০৯–এর হিসাব থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালে বাল্যবিবাহের অভিযোগে ৯৯১টি কল এসেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৮৬৫টি।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এর তথ্য অনুসারে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে বাল্যবিবাহের অভিযোগে কল এসেছে ৭৩৩টি। অর্থাৎ দিনে গড়ে আটটি করে অভিযোগ এসেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ‘বর্ন টু বি আ ব্রাইড’ (কনে হওয়ার জন্যই যেন জন্ম) শিরোনামে জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ব্র্যাকের সোশ্যাল এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড লিগ্যাল প্রটেকশন (সেলপ) কর্মসূচি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাল্যবিবাহের পেছনে দারিদ্র্য বড় কারণ বলা হলেও ধনী ও মধ্যবিত্ত পরিবারেও বাল্যবিবাহের উচ্চ হার রয়েছে।
বাল্যবিবাহের হার সবচেয়ে বেশি দরিদ্র পরিবারে, ৬০ শতাংশের মতো। তুলনামূলক কম দরিদ্র পরিবারে এ হার প্রায় ৬২ শতাংশ, মধ্যবিত্ত পরিবারে প্রায় ৫৫ শতাংশ, উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে ৫৪ শতাংশের বেশি ও উচ্চবিত্ত পরিবারে ৫০ শতাংশের বেশি। যে পরিবারে একটি মাত্র মেয়ে, সেখানে বাল্যবিবাহের হার অস্বাভাবিক হারে (৮৯ শতাংশ) বেশি।
মেয়েদের ঘিরে এখনো ‘বিয়েকেন্দ্রিক চিন্তা’
মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের সময়ে মেয়েদের লেখাপড়া শেখানো হতো মূলত বিয়ের বাজারে দাম বাড়ানোর জন্য। বিয়েটাই ছিল মূল লক্ষ্য। মেয়েটিকে বিয়ের জন্য কীভাবে তৈরি করা হবে, সেটাই ভাবা হতো। নারীকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কথা ভাবা হয় না।
যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে নারী শিক্ষার প্রসার হলেও নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত কোনো পরিবার মেয়েদের ঘিরে বিয়েকেন্দ্রিক চিন্তা থেকে বের হতে পারেনি বলে মনে করেন ফওজিয়া মোসলেম।
ফওজিয়া মোসলেম, সভাপতি, মহিলা পরিষদনারী শিক্ষার প্রসার হলেও নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত কোনো পরিবার নারীদের ঘিরে বিয়েকেন্দ্রিক চিন্তা থেকে বের হতে পারেনি।ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘আমরা চাই, নারীকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা হোক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নানা অস্থিরতা, জটিলতা নারীর চলার পথে বাধা দ্বিগুণ হয়েছে। অনেকে এত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে চান না। দ্রুত বিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দায় সারতে চান। নারীবিদ্বেষী প্রচারও বাল্যবিবাহের মতো প্রথাকে আরও উৎসাহিত করছে।’
বাল্যবিবাহের প্রবণতা বন্ধে আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করা উচিত বলে মনে করেন ফওজিয়া মোসলেম।
বাল্যবিবাহের সাজা
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুসারে, ১৮ বছরের নিচের বয়সী মেয়ে ও ২১ বছরের নিচের বয়সী ছেলের বিয়ে হলে তা বাল্যবিবাহ।
বাল্যবিবাহ করা, সম্পাদন ও পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
আইনে বাল্যবিবাহের শাস্তি হিসেবে ৭ (১) ধারায় বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারী বা পুরুষ অপ্রাপ্তবয়স্ক কাউকে বাল্যবিবাহ করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
৭ (২) উপধারায় অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারী বা পুরুষ বাল্যবিবাহ করলেও সর্বোচ্চ এক মাসের আটকাদেশ বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের সাজা পেতে পারে। তবে ৮ ধারায় দণ্ড কার্যকর হলে অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষ সাজা পাবে না।
আইনের ৮ ধারায় বলা হয়েছে, পিতা–মাতা, অভিভাবক অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি বাল্যবিবাহ দিলে বা অনুমতি দিলে বা অবহেলার কারণে বাল্যবিবাহ বন্ধে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ দুই বছর, সর্বনিম্ন ছয় মাসের বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
তবে আইনের ১৯ ধারায় বিশেষ বিধান অনুসারে, বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নির্দেশে এবং মা–বাবা কিংবা অভিভাবকের সম্মতিতে বাল্যবিবাহ হলে অপরাধ গণ্য হবে না।
এসএসসিতে অনুপস্থিতির বড় কারণ বাল্যবিবাহ‘সাজা দিয়ে বন্ধ হবে না’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমীন প্রথম আলোকে বলেন, বাল্যবিবাহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে এই আইনের অধীনে মামলা হয় না বললেই চলে। ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঝেমধ্যে অল্প সময়ের জেল–জরিমানা, মুচলেকা ইত্যাদি সাজা দেন।
তাসলিমা ইয়াসমীন, সহযোগী অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়শুধু আইন সংস্কারের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ঠেকানো সম্ভব নয়। আইন সংস্কারের আগে গবেষণা করা উচিত ছিল, কী ধরনের পদক্ষেপ নিলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা যাবে।‘বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক প্রথাকে সাজা দিয়ে বন্ধ করা যাবে না। ১৯২৯ সালে ব্রিটিশ আমলে করা আইনটিকে কিছু সংস্কার করা হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে আইনটি দিয়ে যখন বাল্যবিবাহ বন্ধ করা যায়নি, তখন বোঝা উচিত ছিল শুধু আইন সংস্কারের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ঠেকানো সম্ভব নয়। আইন সংস্কারের আগে গবেষণা করা উচিত ছিল, কী ধরনের পদক্ষেপ নিলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা যাবে,’ বলেন তাসলিমা ইয়াসমীন।
পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে ধারণা দিয়ে অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমীন বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মেয়েদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিতে হবে। বাল্যবিবাহ থেকে মেয়েদের রক্ষায় স্কুলপর্যায়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। একটি মেয়ের বাল্যবিবাহ বন্ধ হলে তাকে যেন সামাজিকভাবে হেনস্তার মধ্য দিয়ে না যেতে হয়, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
দেশে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যেই নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে উদাহরণ তৈরি করে যাচ্ছে অনেক কিশোরী। ২০২৪ সালের মে মাসে বাল্যবিবাহ নিয়ে বগুড়ায় কাজ করতে গিয়ে দেখা হয়েছিল এক মেয়ের সঙ্গে। সে নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। তার মতো কিশোরীরা অন্য আরও অনেকের অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।
